Skip to main content

।।জাদুকর।।

"আকাশে মেঘটা বেশ ভালোই জমেছে,মনে হয় বৃষ্টি টা জোরেই পড়বে।।জলদি জলদি পা চালাই বৃস্টি নামার আগেই জঙ্গল থেকে বেড়াতে হবে।।" কথা শেষ হতে না হতেই জোরে বৃষ্টি নেমে গেলো, সমরেশ সঙ্গে সঙ্গে একটি গাছে আশ্রয় নিলো কিন্তু বৃষ্টি টা বেড়েই যাচ্ছে দেখে সমরেশ এইদিক ঐদিকে দেখতে লাগলো যদি কোনো আশ্রয়স্থল পাওয়া যায়।। "ওই তো একটা পুরোনো বাড়ি যাই ওখানে" বলে সমরেশ চলে গেলো ঐদিকে।।গিয়ে যখন অনেক খন ডাকাডাকি করেও কেউ এলোনা সে বুঝতে পারলো যে বাড়ি টা পরিত্যক্ত ;সে বাড়িতে প্রবেশ করলো প্রবেশ করার সাথে সাথেই তার শরীরে কেমন যেন একটা শিহরণ খেলে গেলো ।। সমরেশ অংকের শিক্ষক তাই এইসব ভূত পুত সে মানেনা তাই সে নতুন জায়গা এই অজুহাত দিয়ে কথাটি উড়িয়ে দিলো।। কিন্তু যত রাত বাড়তে লাগলো বাইরে যেমন বৃষ্টি তা বাড়তে লাগলো ঠিক তেমনি তার ভয় টাও যেন বাড়তে লাগলো।।হঠাৎ তার মনে হতে লাগলো কেউ যেন তাকে সর্বক্ষণ নজরে নজরে রেখেছে।। সমরেশ একটু সাহস করে বাড়ির ভিতর তা ঘুরে দেখবে বলে ঠিক সেই সময় সে আবিষ্কার করলো ঘরের মেঝের উপর কিছু যেন একটা পরে আছে আর নড়চড় করছে; সে জিনিস টার দিকেই এগিয়ে যেতেই জিনিস টা ঝাপটে পড়লো তার উপর সে কোনোরকমে জিনিস তাকে নিজের উপর থেকে সরিয়ে ফেলে কোনো রকমে দরজার দিকে দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলতে যাবে এমন সময় সে বুঝতে পারলো যে দরজাটি ক্রমশ টার কাছ থেকে দূরে চলে যাচ্ছে ;কিছু বুঝতে না পেরে সে নিজেকে রক্ষা করার জন্য প্রানপনে দৌড়াতে শুরু করলো কিন্তু কিছুই হলোনা পিছনে ঘুরে তাকাতেই সে দেখলো সেই অদ্ভুত প্রাণী তার দিকে এগিয়ে আসছে ভয়ে কিছু ক্ষণ পর সমরেশ জ্ঞান হারালো।। জ্ঞান ফিরলো তো সে দেখলো তাকে ঘিরে অনেকে দাঁড়িয়ে আছে এবং তাদের মধ্যেই একজন সে এখানে কি করে এলো জিগেশ করলে সে সব বলার পর একজন মধ্য বয়সী লোক বলে উঠলো "বাবু মনে হয় সেই শয়তান যাদুকর এর পাল্লায় পড়েছিলো,আপনি নিজেকে ভাগ্যবান বলুন যে আপনি বেঁচে ফিরেছেন নইলে তার পাল্লায় যারা যারা পড়েছে কেউ বেঁচে ওই বাড়ি থেকে ফিরেনি!!"
সমরেশ একটু কৌতুহলের সাথেই জিগেস করলো কোন জাদুকর আমি বুঝতে পারছিনা সব বলুন আমাকে।।
ভিড়ের মধ্যে থেকেই একজন এগিয়ে এসে বললো "আপনি কাল রাতে যেই বাড়িতে ছিলেন সেইটা কোনো বাড়ি নয় সেইটা একটা শয়তান যাদুকরের মায়াজাল মাত্র।। সে শক্তিশালী হওয়ার জন্যে নরবলি দেয়,অপদেবতার পুজো করে।তাকে গ্রাম থেকে বিতাড়িত করা হলে সে এই জঙ্গলে খাঁটি বাধে কিন্তু কিছু দিন পরেই অস্বাবাভিক ভাবে তার মৃত্যু ঘটে;গ্রামের সবাই ভেবেছিল এবার মনে হয় তার হাত থেকে সবাই এবার মুক্তি পাবে কিন্তু না!!তার অত্যাচার আরো বেড়ে গেলো দিন দিন।।সে প্রত্যেক পূর্ণিমার রাতে  এইখান থেকে যাওয়া কোনো পথিককে মেরে চাঁদের আলোয় তার রক্ত পান করে।।কিন্তু কাল বৃষ্টি হওয়ার জন্য মনে হয় আপনি বেঁচে গেছেন।।"

কথা গুলো শুনার পর সমরেশ ভাবতে লাগলো কাল তার ভাগ্য ভালো থাকার কারণে সে প্রাণে বেঁচেছে না ঠাকুরের আশীর্বাদ ছিল বলে।।

ফেসবুক পেজে লাইক দিন

ইনস্টাগ্রামে ফলো করুন

ভালোলাগলে কমেন্টে জানান অথবা মেসেজ করুন 😊😊😊 উপরের লিংক গুলো তে 😊😊😊😊

আমার অন্য ব্লগ টি দেখুন

Comments