Skip to main content

||দিঘায় গুবলু।।

আজকে শেষ স্কুল তারপর গরমের ছুটি পরে যাচ্ছে,সবাই খুব উত্তেজিত তার মধ্যে গুবলু একটু বেশিই উত্তেজিত বলা যেতে পারে;তার উত্তেজনার কারণ হলো এইবার গরমের ছুটিতে তার বাবা  মা তাকে নিয়ে বাইরে দিঘা নিয়ে যাচ্ছে বেড়াতে। দিঘা কোনোদিন যায়নি সে তাই একটু উত্তেজিত আছে,স্কুলে ছুটির ঘন্টা পড়তেই সে দেরি না করে বাড়ির দিকে রওনা হলো, বাড়ি ফিরেই সে তার মা কে তাদের যাওয়ার সম্পর্কে সব কিছু জেনে নিলো; গুবলুরা কাল যাবে দিঘা ট্রেনে করে। গুবলু খুব খুশি ও উত্তেজিত,পরের দিন কি কি হতে পারে তার সাথে সে সেইটা ভাবতে কখন ঘুমিয়ে পড়লো রাতে সে নিজেও জানেনা;তার মা কে ডাকাতে সে উঠে পড়লো এবং জলদি তৈরি হয়ে পড়লো। স্টেশনে পৌঁছে ট্রেনে উঠে তার উত্তেজনা আরো বেড়ে গেলো; ট্রেনটি জোরে শীষ ছেড়ে প্লাটফর্ম থেকে বেড়াতে শুরু করেছে ঠিক সেই সময় তাদের বার্থে আর একজন লোক এসে প্রবেশ করলো। লোকটিকে দেখে গুবলুর কেমন সন্দেহজনক মনে হয়েছিলো, সেইদিকে মন না দিয়ে সে জানলার বাইরে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে থাকতে; কিছুক্ষন পর সে শুনতে পায় যে সেই লোকটিও দিঘা যাবে এবং তার বাবা মা এর সাথে লোকটির বেশ ভাব হয়েগেছে। গুবলুর বাবা তাকে তার প্রফেশন নিয়ে জিগেস করলে সে জানায় সে একজন লেখক এবং নতুন কিছু চিন্তা মাথায় আনতেই দিঘা যাচ্ছেন।। এই ভাবে গল্প করতে করতে তাদের গন্তব্য স্থল এসে গেছে ,ট্রেন থেকে নেমে তারা বাইরের দিকে গেলো এবং হোটেলে গেলো।।

হোটেলটি বেশ ভালো লাগলো গুবলুর, সমুদ্রের পাশেই হোটেল আর কি চাই গুবলুর।ঐখানে একটি বাঙালি পরিবারের সাথে ভাব হয়ে তাদের। ৩-৪ দিন কেটে যাওয়ার পর গুবলুরা একদিন সমুদ্রের ধরে ঘুরতে যায় তখন ঘুরতে ঘুরতে সে একটি পুরোনো বাড়ি দেখতে পায়, একটু সামনে যেতেই সে ট্রেনের সেই অদ্ভুত লোকটিকে দেখতে পায় অন্য একজনের সাথে কিছু একটা নিয়ে  কথা বলছিল, গুবলু কে দেখতে পেয়ে  তারদিকে এসে সে এইখানে কি করে এলো জিগেস করাতে সে বললো সে হারিয়ে গেছে,গুবলু লোকটিকে উল্টে জিগেস করলে সেও এক কথা বললো যে রাস্তা হারিয়ে গেছে কিন্তু গুবলুর মনের সন্দেহ টা গেলোনা কারণ সে যদি রাস্তা ভুলেই ঐখানে যেত তাহলে সে বাড়ির ভিতর থেকে কেন বেড়ালো এবং লোক তার সাথে কি এমন কথা বলছিল এই সব ভাবতে ভাবতেই সে তার বাবা মা এর কাছে এসে পড়েছে।।

হোটেলে গিয়েও গুবলুর মনে সেই একি  চিন্তা,কিছুক্ষন পর সে ঠিক করলো ওই বাড়িটাতে যাবে কাল একবার;খেয়ে উঠে নিজের রুমে গিয়ে সে কালকের জন্য অপেক্ষা করতে থাকলো।পরের দিন সকাল হতেই কাউকে না বলে সে বেরিয়ে পড়ে বাড়িটির জন্য।বাড়িটার সামনে গিয়ে গুবলুর কেমন যেন ভয় মেশানো উত্তেজনা  সৃষ্টি হলো,বাড়িতে ঢুকে কিছুক্ষন পর সে বুঝতে পারলো কেউ থাকেনা বাড়িতে তাই সে এইদিক ঐদিক ঘুরতে লাগলো কিন্তু উপরে ঘরে যেতেই সে দেখলো কোন মহিলা যেন উপুড় হয়ে শুয়ে আছে,অনেক ডাকাডাকির পর যখন কিছু হলোনা সে বুঝতে পারলো যে মহিলাটি মৃত্য।ঠিক তখনি সে দরজা খুলার আওয়াজ পেলো এবং লুকিয়ে গেল এবং দেখতে লাগলো কে বা কারা আসছে;গুবলু যেটা ভেবেছিল ঠিক সেটাই হলো ট্রেনের লোকটি প্রথমে এই ঘরে প্ৰৱেশ করলো এবং তার সাথে আরো ২ জন। তারা কি যেনো একটা বাইরে পাচার করার কথা বলছে;কিছুক্ষন আরো শুনার পর সে বুঝতে পারলো যে এই বাড়িতে সব পুরোনো জিনিসপত্র আছে যেগুলো তারা বেআইনি ভাবে বাইরে পাচার করে।

গুবলু এইটাকে আটকাতে হবে ভেবে মনে মনে পরিকল্পনা করতে থাকলো কিন্তু তার এইটাও মনে হলো সে একটা ১২ বছরের বাচ্চা কি করে পারবে,তাও সে কিছু একটা করবে বলে ঠিক করলো।কিছু ক্ষণ পর সে দেখলো একজন বাদে সবাই চলে যাচ্ছে।গুবলু ঠিক করলো তাকেই প্ৰথমে কাবু করবে হবে,এইদিক ঐদিক দেখার পর সে একটা ফুলদানি দিয়ে তার মাথায় মেরে অজ্ঞান করে দিলো এবং লুকিয়ে দিয়ে হাত পা বেঁধে দিলো।সে নীচে আস্তে আস্তে নামতে নামতে দেখতে পেলো আর একজন নীচে আছে তখন গুবলু তার হাতের সামনে থাকা একটা লোহার ডান্ডা নিয়ে তাকেও মারে এবং বেহুশ করে কিন্তু দলের পান্ডার কাছে সে ধরা পড়ে।
গুবলুকে বেঁধে রেখে সেই লোকটি বলে যে সে জানতো গুবলু এইখানে লুকিয়ে আছে।কাকে যেনো গুবলু ফোনে কথা বলতে শুনে যে আজ রাতে তারা জিনিসপত্র সমেত অন্যজায়গায় চলে যাবে,গুবলুকে যেখানে বেঁধে রাখা হয়েছিল সেইখানে সামনেই জানলা ছিলো, সে ঠিক করলো তাকে এখন পালাতে হবে এবং সাহায্য নিয়ে আসতে হবে; নিয়মিত শরীর চর্চা করার ফলে সে খুব সহজেই নিজেকে বাঁধনমুক্ত করে ফেললো এবং পালাতে সক্ষম হলো।

পালিয়ে যখন সে হোটেলের দিকে যাচ্ছে তখন দেখলো যে তার বাবা মা এবং পুলিশ তাকে খুঁজছে তাদের দেখতে পেয়ে গুবলু পুলিশ তাদের সব বললো,বলার পর তারা সবাই সেইদিকে গেলো এবং কিছু খনের প্রচেষ্টা করার পর তারা বাড়িটির উপর কবজা করতে পারে; পরে পুলিশের কাছে জানতে পারে লোকটি একজন দাগী আসামি পুলিশ তাকে অনেক দিন ধরেই খুঁজছে এবং তারপর ১ লক্ষ টাকা পুরস্কার আছে যেটা গুবলু পাবে।সব জিনিস পত্র উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে গুবলুরাও আজ বাড়ি ফিরছে সবাই তার খুব প্রশংসা করেছে তার সাহসিকতা নিয়ে।।গরমের ছুটিটা গুবলুরও খুব ভালো কাটলো, আবার একটি ছুটির অপেক্ষায় রইলো গুবলু।

Comments